অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

সরবরাহ বেশি হওয়ার শঙ্কায় ফের কমল জ্বালানি তেলের দাম।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

রাশিয়ার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকবে—এই ধারণাই বাজারকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।

মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২৭ সেন্ট কমে নেমে আসে ৬৩ দশমিক ১০ ডলারে। একই দিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেল ২৩ সেন্ট হারিয়ে পৌঁছায় ৫৮ দশমিক ৬১ ডলারে। সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা দাম বাড়লেও পরদিন আবার নিম্নমুখী প্রবণতা ফিরে আসে।

বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার মতে, ২০২৬ সাল থেকেই বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ উদ্বৃত্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নিষেধাজ্ঞাজনিত জটিলতায় ভারতের কয়েকটি রিফাইনারি—বিশেষ করে রিলায়েন্স—রাশিয়া থেকে আমদানি কমিয়েছে। ফলে রাশিয়া তাদের অতিরিক্ত তেল চীনের বাজারে বেশি পরিমাণে ছাড়ছে।

ডয়েচে ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালে বাজারে দৈনিক অন্তত ২০ লাখ ব্যারেল তেল উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। ২০২৭ সালেও ঘাটতির কোনো ইঙ্গিত নেই। তবে সুদের হার কমলে বৈশ্বিক চাহিদা খানিকটা বাড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে—এমন সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেছে। কারণ সুদের হার কমার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে, সঙ্গে জ্বালানির ব্যবহারও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে বাজার এখন একদিকে সম্ভাব্য সরবরাহ উদ্বৃত্ত, অন্যদিকে সুদের হার কমার সম্ভাবনা—এই দুই বিপরীত সংকেতের মাঝে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন