চরম গ্যাস সংকটে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ পরিশোধ করেছে পেট্রোবাংলা।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কম এবং চাহিদা বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশের গ্যাস সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না আসতে পেট্রোবাংলা সেপ্টেম্বর মাসে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ পরিশোধ করেছে। সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৪১৯.৯০ মিলিয়ন ডলার পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে এক মাসে পরিশোধ করা হলো, যা একক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, ১১টি এলএনজি কার্গো প্রক্রিয়াকরণ খরচসহ ৩৫২ মিলিয়ন ডলার, শেভরন বাংলাদেশকে ৩৭ মিলিয়ন ডলার এবং আইটিএফসি-কে ঋণ ও সুদ পরিশোধে ৩০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি খাতে চলতি মাসে বকেয়া পরিশোধের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি মাসে আরও তিনটি এলএনজি কার্গো আমদানি হলে বৈদেশিক অর্থের পরিশোধের মোট পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ওপর যেতে পারে। আগের মাসের তুলনায় (আগস্টে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার) এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
পেট্রোবাংলা আরও বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাসিক আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, গ্রাহক পর্যায়ে আদায় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও সার খাতের বকেয়া পুনরুদ্ধারে নিয়মিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা, এবং এলএনজি আমদানির জন্য স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ইস্যুর সংখ্যা বাড়ানো। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিপিসি থেকে সহায়তাও নেওয়া হয়েছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে দেশে ৩১.৬১ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করা হয়েছে, যার জন্য ১৭.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। ২০১৮ সালের শুরুর তুলনায় ২০২৪ সালে এলএনজি আমদানির পরিমাণ ৫ দশমিক ৮০ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হ্রাসের কারণে দেশ ব্যয়বহুল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়েছে।
ভবিষ্যতে পেট্রোবাংলা অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো, দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি সুরক্ষা এবং কর/ভ্যাট সুবিধা নিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।
মতামত দিন