অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

আর্থিক খাতের স্বচ্ছতার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ৮ পরামর্শ বাংলাদেশকে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশে আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য আটটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে। ২০২৫ সালের ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে (Fiscal Transparency Report) এই পরামর্শগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার মূলত আগের সরকারের বাজেট কাঠামো অনুসরণ করছে। যদিও কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সুপারিশগুলো হলো:
১. বছরের শেষ হিসাব প্রতিবেদন নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ করা।
২. বাজেট নথি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রস্তুত করা।
৩. নির্বাহী কার্যালয়ের ব্যয় আলাদাভাবে উপস্থাপন করা।
৪. সরকারের রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য বাজেটে দেখানো।
৫. সর্বোচ্চ নিরীক্ষা সংস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বাজেট সংক্রান্ত সব তথ্য তাদের জন্য উন্মুক্ত রাখা।
৬. নিরীক্ষা প্রতিবেদন সময়মতো প্রকাশ করা, যাতে বিস্তারিত প্রস্তাবনা ও তথ্য থাকে।
৭. প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ সংক্রান্ত চুক্তির মূল তথ্য উন্মুক্ত করা।
৮. সরকারি ক্রয়ের তথ্য সবার জন্য সহজলভ্য করা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদিও অন্তর্বর্তী সরকার কিছু অগ্রগতি করেছে—যেমন বাজেট প্রণয়ন ও অনলাইনে প্রকাশ—তবুও বছরের শেষ হিসাব প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মনে করছে, সরকারের ঋণ ও দেনার তথ্য বাজেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সরকারের পরিকল্পিত ব্যয়, রাজস্ব আয় ও প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে আয় দেখানো হলেও নির্বাহী বিভাগের  ব্যয় আলাদা করে তুলে ধরা হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের চুক্তি ও লাইসেন্স প্রদানে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয়ে কিছু সীমাবদ্ধ তথ্যই প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্বতন্ত্রভাবে সম্পূর্ণ হিসাব যাচাই করতে পারেনি।

মোটের উপর, প্রতিবেদনটি নির্দেশ করছে যে, বাংলাদেশে আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে এখনও বেশ কিছু ক্ষেত্রের উন্নয়ন প্রয়োজন।

মতামত দিন