অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপণ্যের লাগামহীন বাজারদর, ভোগান্তিতে সাধারণ ক্রেতা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের চরম সংকটে ফেলেছে। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল থেকে শুরু করে প্রায় সবজির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে।

সীমিত আয়ের মানুষ খরচ কমিয়েও স্বস্তি পাচ্ছে না, বিশেষ করে নিম্নবিত্তের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

টিসিবির সর্বশেষ পর্যালোচনা অনুযায়ী, আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। দেশি পেঁপে ছাড়া অন্য কোনো সবজি ৫০ টাকার নিচে নেই; এই পেঁপের দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। বাজারে করলা মিলছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, বরবটি ১০০ থেকে ১২০, ঢেঁরস ও পটোল ৮০ থেকে ১০০, ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ এবং চিচিঙা ৮০ টাকায়। নতুন শিমের দাম সর্বোচ্চ, কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। কাঁচামরিচও ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি মসুর ডাল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ডিমের বাজারেও চড়া দাম, ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতার অভিযোগ, তদারকির অভাবে বাজারে নৈরাজ্য চলছে। তাঁর মতে, মাছ-মাংস কিনতে গেলে কয়েক হাজার টাকা নিয়ে যেতে হয়।আগে দামের চাপ এলে ডিম ও সবজির দিকে ভরসা করা যেত, কিন্তু এখন সেগুলোরও দাম হাতের নাগালে নেই।

বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম দ্বিগুণ হওয়ায় খুচরায়ও তা বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা কম কিনছে, এতে তাদেরও ক্ষতি হচ্ছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ ঘাটতি ছাড়াও সিন্ডিকেট ও দুর্বল তদারকি মূল্যের উর্ধ্বগতির জন্য দায়ী। ভোক্তা অধিকারকর্মী মো. খলিলুর রহমান সজল বলেন, ক্রেতারা এখন চুপচাপ এই চাপ মেনে নিচ্ছে, যা  বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থতার ইঙ্গিত। তাঁর দাবি, রাজধানীতে বেগুন ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন এলাকায় তা ৬০ টাকার মতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি সতর্ক করে বলেছেন, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ না করলে মানুষের দুর্ভোগ চলতেই থাকবে। তাঁর মতে, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি, আমদানি শুল্ক হ্রাস ও কৃষিপণ্যের সরাসরি বিপণন বাড়াতে হবে।

মতামত দিন