৭৫ শতাংশ ব্যাংকে আমানত-ঋণের সুদ পার্থক্য সীমা অতিক্রম।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের পার্থক্য বা স্প্রেড অনেকখানি বেড়ে গেছে। একদিকে আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলো তৎপর, অন্যদিকে ঋণের বিপরীতে সুদহার আকাশচুম্বী।
বাংলাদেশে ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ৪৬টির স্প্রেড ৫ শতাংশের ওপরে, যেখানে বিদেশি ৯টি ব্যাংকের গ্যাপ ৫ থেকে ১৩.৯৫ শতাংশ। সরকারি ব্যাংকের ৬টির মধ্যে ৫টিতেই এ হার বেশি। বেসরকারি ৪২টির মধ্যে ৩২টির স্প্রেড নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ স্প্রেড গ্রহণযোগ্য হলেও, দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকে এটি অতিক্রম করেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চ সুদ হার কেবল ব্যাংকের মুনাফা বাড়াচ্ছে না, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদুল হাসান খান বাবু বলেন, “১৩-১৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে শিল্প চালানো সম্ভব নয়। কস্ট অফ ডুয়িং বিজনেস বাড়ছে।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্প্রেড কমাতে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারকেই সুদের হারে ক্যাপ নির্ধারণ করতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম মনে করেন, “এত বিশাল গ্যাপের কারণে কস্ট অফ ক্যাপিটাল বেড়ে গেছে, বিনিয়োগ কমে গেছে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ইন্টারেস্ট রেটের ওপর কোনো ক্যাপ নেই। উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি গ্রহণযোগ্য নয়। যারা বাজার নিজে থেকে সুদ ঠিক করবে বলে মনে করে, তারা ভুল ভাবছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “৪ শতাংশের বেশি হলে আমরা ব্যাংককে প্রশ্ন করি। তবে ব্যক্তিগতভাবে দেখা গেছে, বিদেশি ব্যাংকে গ্যাপ বেশি।”
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চে ব্যাংক খাতে গড় স্প্রেড ছিল ২.৯৬ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে তা দ্বিগুণ হয়ে জুনে দাঁড়িয়েছে ৫.৮২ শতাংশে। ফলে ব্যাংকগুলো বিপুল মুনাফা করলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক ও উদ্যোক্তারা।

মতামত দিন