নিজেস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বাজারে কয়েকদিন ধরে সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অন্যান্য নিত্যপণ্যের মতো সবজির দামও চড়া হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট, সূত্রাপুর ও শ্যামবাজারসহ একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভোক্তা এখন অল্প পরিমাণে সবজি কিনছেন।
দেশের বাজারে সবজির দাম বেশ কিছুদিন ধরে বাড়তি। আলু প্রতি কেজি ২৫–৩০ টাকা ও পেঁপে ২০–৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম দামের সবজি। তবে অন্যান্য সবজির দাম অনেক বেশি; করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০–১০০ টাকা, টমেটো ১৬০–১৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৭০–৮০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, ঝিঙা, ধুন্দল ও কাঁকরোল ৮০ টাকা করে, বেগুন (গোল) ১৪০ টাকা, বেগুন (লম্বা) ৮০–১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও কচুরমুখী ৮০ টাকা, আর কাঁচামরিচ ২৪০–২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতীয় গাজর ১৪০ টাকা, ধনেপাতা ও ক্যাপসিকাম প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। নিত্যপণ্যের চড়া দাম, মৌসুমের পরিবর্তন, বৃষ্টিপাত, বন্যা, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম হওয়ায় এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাজারে হাতবদল এবং ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে যায়। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বাজারে কম পরিমাণে সবজি কেনার প্রয়োজন হচ্ছে। বাজার তদারকির দুর্বলতাও এই পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে।
বাজারের ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়াই মূল কারণ। কিছু এলাকায় বন্যা ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে কৃষকরা ফসল তুলতে পারছেন না, যার ফলে দাম বেড়ে যাচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা জানান, সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকে বিক্রি অনেক কমে গেছে। আগে এক কেজি কিনতেন, এখন আধা কেজি কিনছেন ক্রেতারা।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে সবজি আনার পর ট্রাকেই বিক্রি হয়ে যায়, এরপর একে একে ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে গেলে দাম বাড়ে।কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পণ্য মজুদ রেখে দাম বাড়াচ্ছেন।
ভোক্তারা বাজারে তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন।একজন ক্রেতা বলেন, “আমার ছোট সংসার, তবু এখন বাজার করতে গেলে কষ্ট হয়। কয়েক মাস আগে ৪০০–৫০০ টাকায় বাজার হতো, এখন ১ হাজার–দেড় হাজার টাকায় করা যাচ্ছে।”
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে যে অভিযান আগে হতো, তা কমে গেছে। আইনের শক্ত প্রয়োগ ছাড়া ব্যবসায়ীরা অবাধে দাম বাড়াচ্ছেন। তিনি জানান, একমাত্র পথ হলো বাজারে আইন কায়েম করা, তবেই দাম কমানো সম্ভব।
মতামত দিন