রাঙামাটির পাহাড়ে অর্থকরী ফসল হয়ে উঠছে বিলেতি ধনেপাতা।
জেলার কাউখালী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকরা বাঁশের তৈরি মাচার নিচে ছায়াযুক্ত পরিবেশে চাষ করছেন ধনেপাতা। দেখলে মনে হতে পারে পানের বরজ, কিন্তু নিচে চোখ রাখলেই দেখা মিলবে লম্বা পাতা বিশিষ্ট সবুজ ধনেপাতা গাছের। কৃষকরা জানান, একবার রোপণ করলেই চারবার পর্যন্ত ধনেপাতা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, ফলে এটি বেশ লাভজনক একটি ফসল।
কৃষক অমিও চাকমা বলেন, ‘এই মৌসুমে এক একর জমিতে বিলেতি ধনেপাতা চাষ করেছি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি, এবার দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার ধনেপাতা বিক্রি করতে পারবো।’
ধনেপাতা চাষের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই জমিতে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকতে হয়, আবার মাটিতে পর্যাপ্ত রসও থাকতে হয়। এসব শর্ত মিলে যাওয়ায় পার্বত্য রাঙামাটি এই ফসলের আদর্শ চাষস্থানে পরিণত হয়েছে। আলো-ছায়ার প্রয়োজনীয়তার কারণে মাচা ব্যবহার করে চাষ করা হয় এবং ওই মাচাতেই সাথী ফসল হিসেবে লাউ, বরবটি, চিচিঙ্গার মতো সবজিও ফলানো হয়। এতে কৃষকের বাড়তি আয়ও নিশ্চিত হয়।
কৃষক চাকমা বলেন, ‘আলো-ছায়া দরকার হয় বলেই আমরা মাচা তৈরি করি। এতে উপরে সবজি, নিচে ধনেপাতা—দুই ফসল থেকেই লাভ হয়।’
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘এই জেলার বিলেতি ধনেপাতার প্রতি দেশের নানা জায়গায় ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাই আমরা কৃষকদের এর উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর রাঙামাটিতে ৫০ হেক্টর জমিতে বিলেতি ধনেপাতার চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার মেট্রিক টন। দেশের বাজারে এই ধনেপাতার অবস্থান দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে, ফলে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতেও এটি যোগ করছে নতুন মাত্রা।

মতামত দিন