অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্বে জ্বালানি বাজারে এক নতুন উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যৌথ বিমান হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে।

সোমবার (২৩ জুন) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার পরপরই বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮.৫৩ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি।

অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৫.৩৫ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ১.৮৯ ডলার বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা ও রুট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ইতোমধ্যে ওই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জাহাজ বিকল্প রুটে চলাচল শুরু করেছে বলেও নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক শিপিং বিশ্লেষকরা।

বিশ্ববাজারের প্রতিক্রিয়ায় এশিয়ান শেয়ার মার্কেটে ও মৃদু পতন লক্ষ্য করা গেছে। নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ ঝুঁকে পড়ছে বিনিয়োগকারীরা। আর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাক্স এক পূর্বাভাসে বলেছে, বিশ্ব সরবরাহব্যবস্থায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য।

এই পরিস্থিতিতে বড় তেল আমদানিকারক দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

মতামত দিন