সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের অর্থ ২৩ গুণ বৃদ্ধি: উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ২ কোটি ৬৪ লাখ ফ্রাঁ, অর্থাৎ প্রায় ৩৯৬ কোটি টাকা। ২০২২ সালের শেষে এই অঙ্ক ছিল আরও বেশি—৫ কোটি ৮৪ লাখ ফ্রাঁ বা আনুমানিক ৮৭৬ কোটি টাকা।
এসএনবির তথ্য বলছে, এসব অর্থের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকগুলোর পাওনা, আমানতকারীদের হিসাব এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অর্থ মূলত বৈধ লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, প্রায় ৯৫ শতাংশ অর্থই এসেছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আন্তঃব্যাংক দেনাপাওনার আওতায়।
তবে আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ এ দাবিকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে নারাজ। তাদের মতে, এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে অবৈধ অর্থ স্থানান্তরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সুইস কর্তৃপক্ষ কিংবা বাংলাদেশের কোনো তদন্ত সংস্থা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে সুইস ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (এফআইইউ) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
সুইস কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, তারা কেবল তখনই তথ্য সরবরাহ করবে,যখন সংশ্লিষ্ট কোনো লেনদেন অবৈধ অর্থপাচারের পর্যায়ে পড়ে—এবং তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার নতুন নয়, তবে এই মাত্রার বৃদ্ধি দেশীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

মতামত দিন