পাচার হওয়া সম্পদ ফেরাতে আর্থিক সমঝোতার পথে বাংলাদেশ, নেতৃত্বে আহসান এইচ মনসুর।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভর্নর মনসুর জানান, যেসব মামলার গুরুতরতা তুলনামূলকভাবে কম, সেগুলোর ক্ষেত্রে সরকার আইনি মোকাবেলার পাশাপাশি আর্থিক সমঝোতার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে। তার ভাষায়, “আমরা চাই সম্পদ ফিরিয়ে আনতে—যদি অপরাধের মাত্রা হালকা হয়, তাহলে দেওয়ানি আইনের আওতায় সমঝোতার পথও খোলা থাকবে।”
এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মামলা পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আহসান মনসুর জানিয়েছেন, এই প্রচেষ্টায় প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা লিগ্যাল ফান্ডিং ফার্মগুলোর মাধ্যমে মামলার খরচ বহনে ব্যবহার হবে। এসব প্রতিষ্ঠান পরে পুরস্কার বা সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশ পাবে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, বিগত শাসনামলে দেশ থেকে বহুগুণ সম্পদ পাচার হয়েছে, যা কয়েকশ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে প্রায় ১১টি তদন্ত শুরু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্রে ধারণা দেওয়া হয় যে,শেখ হাসিনার সময় প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয় ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা, জাল ঋণ, এবং সরকারি প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ইউনূস সরকারি সফরে রয়েছেন যুক্তরাজ্যে। সেখানে ব্রিটিশ সরকারের কাছে সম্পদ শনাক্ত ও ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সক্রিয় সহযোগিতা চান তিনি। ইউনূস বলেন, “এটি চুরি হওয়া অর্থ—এটা নৈতিক ও আইনগতভাবে পুনরুদ্ধারের দাবি রাখে।”
তবে এসব উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও উত্থাপিত হয়েছে। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সমর্থকরা মনে করছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ। যদিও দলটি ইতিমধ্যে বর্তমান সরকারের হাতে নিষিদ্ধ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মামলা পরিচালনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে লিগ্যাল ফান্ডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এদের অনেকেই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মতামত দিন