অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

রড-স্টিলের ওপর ভ্যাট বাড়ছে, বাড়ি নির্মাণে খরচ বাড়ার শঙ্কা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রড ও স্টিলের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে বাড়ি নির্মাণে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা ও নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সোমবার (২ জুন) বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমসহ বেসরকারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তৃতায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। এটি চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কম,যা স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার হ্রাসের নজির।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, রড ও স্টিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণসামগ্রীর ওপর ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আমদানির ক্ষেত্রে এই হার ২০ থেকে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এর ফলে প্রতি টনে রডের দাম গড়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বর্তমানে স্টিলের মূল কাঁচামাল স্ক্র্যাপ আমদানিতে প্রতি টনে নির্ধারিত শুল্ক ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিলেট  ও রড উৎপাদনে ফিক্সড ভ্যাট রয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। সব মিলিয়ে সরকার প্রতি টনে মোট ৩ হাজার ৭০০ টাকা রাজস্ব পায়। নতুন ভ্যাট কাঠামো কার্যকর হলে এই রাজস্ব আরও বাড়বে, তবে একই সঙ্গে বাড়বে নির্মাণ ব্যয়ও।

চলতি বাজেট ঘোষণায় সংসদ না থাকায় অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাজেট পাস হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। আগামী ৩০ জুন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর বাজেটটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে, যদিও ভ্যাট-শুল্ক সংক্রান্ত অনেক সিদ্ধান্ত ২ জুন থেকেই কার্যকর ধরা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন ঈদুল আজহার (৭ জুন) ছুটির আগেই বাজেট ঘোষণা করার কৌশল নিয়েছে সরকার, যাতে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা যায়।

নতুন বাজেট প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, "আমরা বাস্তবতা বিবেচনা করে ব্যয় সংযত করেছি। ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।"

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভ্যাট বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত দেশের নির্মাণ খাত, আবাসন ব্যবসা এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।

মতামত দিন