অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

কর্মবিরতির প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট, শুল্কায়নে ধীরগতি দায়ী।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম,আজ বুধবার ২৮ মে ২০২৫:

চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্কায়ন কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে দ্রুত জমছে কনটেইনার, সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন জট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির ঘোষিত অধ্যাদেশের প্রতিবাদে রাজস্ব কর্মকর্তাদের চলমান কর্মবিরতির কারণে বন্দর থেকে পণ্য খালাসে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭মে) পর্যন্ত বন্দরের ইয়ার্ড ও টার্মিনালে ২০ ফুট মাপের ৪৫ হাজার ৩৭৭ টিইইউস (টু-ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিটস) কনটেইনার জমা ছিল। অথচ বন্দরের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউস। ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ উভয়ই বেড়ে যাচ্ছে।

বন্দরের বহির্নোঙরে সকাল পর্যন্ত ৮৭টি জাহাজ অবস্থান করছিল।এর মধ্যে ৪৯টি খোলা পণ্যবাহী জাহাজে পণ্য খালাস হয়েছে,আর ১৩টি ছিল কনটেইনারবাহী, যেগুলোর অনেকে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে জেটিতে।১২টি জাহাজে কনটেইনার লোড ও আনলোড করা হয়।

গত সপ্তাহেও বন্দরে ৪৪ হাজার ২৩১ টিইইউস কনটেইনার জমা হয়, যা ছিল পূর্ববর্তী রেকর্ড।পরে সেই সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও শুল্কায়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আমদানি পণ্য খালাসে গতি আসেনি। ফলে নতুন করে আসা কনটেইনার জমে তৈরি হচ্ছে জট, আর রপ্তানি পণ্যের জাহাজীকরণেও দেরি হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী,সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৯৫২০ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে বন্দরে খালাস হয়েছে ৬৫১১ টিইইউস এবং ঢাকা আইসিডি থেকে এসেছে ৬২ টিইইউস কনটেইনার। রপ্তানির জন্য অফডক থেকে এসেছে ২৬৯৫ টিইইউস পণ্যবাহী কনটেইনার এবং ৮০৭ টিইইউস খালি কনটেইনার।

অন্যদিকে একই সময়ে রপ্তানিকৃত কনটেইনারের সংখ্যা ছিল ৩০০৯ টিইইউস। ঢাকা আইসিডিতে পাঠানো হয়েছে ৭৬ টিইইউস কনটেইনার।আমদানিকৃত ১১৫০ টিইইউস পণ্যবাহী কনটেইনার অফডকে পাঠানো হয়েছে এবং খালি কনটেইনার গেছে ৯৫৪ টিইইউস। এছাড়া, অনচেচিজ পদ্ধতিতে সরাসরি আমদানিকারকদের কাছে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে ১০২১ টিইইউস কনটেইনার এবং বন্দর অভ্যন্তর থেকেই ১৩৬৮ টিইইউস পণ্য খালাস হয়েছে।

বন্দরের বিভিন্ন অংশে এখন ১০৫টি জাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ৬৭টি থেকে পণ্য খালাসের কাজ চলমান। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে বন্দরের কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন