আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো সোনার দাম,দেশের বাজারে এখনো চড়া।
বিশ্ববাজার,আজ মঙ্গলবার ২৭ মে ২০২৫:
বিশ্ববাজারে কয়েক দিনের লাগাতার ঊর্ধ্বগতি থেমে গেছে মূল্যবান ধাতু সোনার দামে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় খানিকটা হ্রাস পেয়েছে সোনার মূল্য।
বিশ্ববাজারে দরপতন
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৬ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ০.৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৩২.৪ ডলারে। একই সময়ে ফিউচার মার্কেটেও সোনার দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৩৩১.৯০ ডলারে নেমে আসে।
মূল্যপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণাপর্ব। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহারের ফলে বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিবেশে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। যার প্রভাবে সোনার মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা হ্রাস পায়।
এছাড়া, ডলারের মূল্য হ্রাসের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সোনা কিছুটা সস্তা হয়ে ওঠে, যা কিছু সময়ের জন্য দাম বাড়ালেও তা টেকসই হয়নি।
দেশের বাজারে এখনো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
আন্তর্জাতিক দরপতনের বিপরীতে দেশের বাজারে সোনার দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী রয়ে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত সপ্তাহে পরপর দুই দফায় সোনার দাম বৃদ্ধি করেছে।
গত ২১ মে বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৮২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯২১ টাকা, যা ২২ মে থেকে কার্যকর হয়।
বর্তমানে দেশের বাজারে সোনার দাম (প্রতি ভরি):
-
২২ ক্যারেট: ১,৬৯,৯২১ টাকা
-
২১ ক্যারেট: ১,৬২,২০০ টাকা
-
১৮ ক্যারেট: ১,৩৯,০২৩ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: ১,১৪,৯৪৯ টাকা
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক দরপতনের প্রভাব আগামী দিনগুলোতে দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হতে পারে। তবে এর সময় ও মাত্রা নির্ভর করবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, ডলারের অবস্থান, এবং স্থানীয় চাহিদার ওপর।
তাদের পরামর্শ, এখনই সোনা কেনা বা বিক্রির মতো কোনো চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। বরং বাজার পরিস্থিতি আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
মতামত দিন