খোলাবাজারে ডলার ১২৭ টাকা, অনিয়মে কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকরের পর খোলাবাজারে ডলারের দামে অস্বাভাবিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোতে বর্তমানে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৭ টাকায়, যেখানে ব্যাংকিং চ্যানেলে একই ডলারের মূল্য ১২২ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে।
এমন দামের ব্যবধান সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, অনেক মানি এক্সচেঞ্জ হাউস ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করলেও তা বাজারে সরবরাহ করছে না।বরং উচ্চ দামের আশায় মজুত করে রাখা হচ্ছে ডলার। এই পরিস্থিতিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডলার বিপণনের এমন অসংগতি ঠেকাতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাতটি বিশেষ তদারকি দল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ মে) ডলারের রেফারেন্স রেট দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৪৩ পয়সা, যা আগের দিন ছিল ১২১ টাকা ৬৮ পয়সা।
রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও ফকিরাপুল এলাকার মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, দোকানগুলোর বোর্ডে ডলারের দাম লেখা থাকলেও বাস্তবে সে দামে ডলার মিলছে না। প্রকাশ্যে ডলার না থাকলেও আড়ালে অতিরিক্ত দামে বিক্রি চলছে বলে জানিয়েছেন একাধিক ক্রেতা। বিশেষ করে হজ মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একাধিক ব্যাংক বলছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে বাংলাদেশে গড়ে ৫.৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ব্যয় হয়। বিপরীতে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার দেশে প্রবেশ করছে, ফলে বাজারে ভারসাম্য থাকার কথা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সতর্ক করে বলেন, খোলাবাজারে ডলার বিক্রিতে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের ঘটনা নজরে এলে সংশ্লিষ্ট মানি এক্সচেঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
মুদ্রা বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

মতামত দিন