অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের নাটক করে বাসরঘরেই প্রতারণা: স্বামীর টাকা-সোনা নিয়ে পালাল নববধূ।

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বিয়ের নামে প্রতারণা করে বাসরঘর থেকেই এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও  দেড় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়েছে এক নববধূ। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী হোসেন আলী।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনি চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন।

শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে আদিতমারী থানায় এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। হোসেন আলী আদিতমারী উপজেলার তালুক পলাশী গ্রামের বাসিন্দা। আর নববধূ রুমানা খাতুন একই উপজেলার সাপ্টিবাড়ী এলাকার এনছার আলীর স্বামী পরিত্যক্ত মেয়ে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিয়ের ঘটক তালুক পলাশী গ্রামের জোবাইদুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম এবং লালমনিরহাট পৌরসভার বিবাহ নিবন্ধনকারী কাজি আমজাদ হোসেন সরকার।

কীভাবে ঘটল প্রতারণা?

অভিযোগে বলা হয়, এক বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয়বার বিয়ের উদ্যোগ নেন কৃষক হোসেন আলী। ঘটক জোবাইদুল ও রবিউল তাকে পাত্রী দেখানোর কথা বলে ১৪ মে লালমনিরহাট শহরে নিয়ে যান। সেখানেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় স্বামী পরিত্যক্তা রুমানা খাতুনের সঙ্গে।পছন্দ হলে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে পড়ানো হয় বলে দাবি হোসেনের।

বিয়ের পরদিন সকালে রুমানা ও তার সঙ্গে আসা ঘটকের মেয়ে হোসেন আলীর ঘর থেকে তামাক বিক্রির ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। তারা ‘বাবার অসুস্থতার’ অজুহাতে বাড়ি ছাড়ে এবং আর ফেরেনি। মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

হোসেন আলী বলেন, “ঘটকেরা আগে থেকেই জানত আমার বাড়িতে বিক্রিত তামাকের টাকা ও স্বর্ণালংকার আছে। তাই পরিকল্পিতভাবেই রুমানাকে স্ত্রী সাজিয়ে পাঠায় এবং পরে টাকা-সোনা চুরি করে পালিয়ে যায়। বিয়ের বকশিশ হিসেবে জোবাইদুল ১০ হাজার টাকাও নেয়।”

কাজির অস্বীকৃতি ও পুলিশের বক্তব্য:

ঘটনার পর হোসেন আলী বিবাহের নকল নিতে গেলে কাজি আমজাদ হোসেন তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। তবে কাজি আমজাদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “রুমানা ও হোসেন আলীর কোনো বিয়ে আমার অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়নি। আমার নাম অহেতুক জড়ানো হচ্ছে।”

আদিতমারী থানার ওসি আলী আকবর বলেন, “বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতারণামূলক ও পরিকল্পিত চুরির মতোই মনে হচ্ছে। এটি কোনো চুরি চক্রের নতুন কৌশল হতে পারে।অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা নতুন হলেও ভয়ংকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মতামত দিন