বিসিবিতে ফের দুদকের অভিযান, তৃতীয় বিভাগসহ তিনটি অনিয়ম তদন্তে নজর।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) ফের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর সে কারণেই শনিবার (১৭ মে) দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
দুদক জানায়, তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সেগুলো হলো—তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের বাছাই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, বিসিবির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতি।
দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “তৃতীয় বিভাগের বাছাই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং আর্থিক বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা রেকর্ড সংগ্রহ করেছি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা হয়েছে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে অংশ নিতে প্রতি দল থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে এন্ট্রি ফি নেওয়া হলেও, তুলনামূলক ছোট পরিসরের এই টুর্নামেন্ট পরিচালনায় নানা অভিযোগ রয়েছে। দুদক সিসিডিএমের (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস) কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। একইসঙ্গে বিসিবির এফডিআরের অর্থ এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি মানা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে রয়েছে।
এর আগে, বিসিবির বিরুদ্ধে মোট ২৭টি অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন রেকর্ডপত্র চেয়েছিল দুদক। যার মধ্যে রয়েছে—পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণে পরামর্শক ও ঠিকাদার নিয়োগ, আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবেদন, আইসিসি ও এসিসি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ ব্যবস্থাপনা, বিপিএলের খরচের বিবরণ,বিদেশি কোচ নিয়োগ নীতিমালা,সম্মানী প্রদান সংক্রান্ত নথিপত্র এবং অর্থ ও লজিস্টিক বিভাগ সংশ্লিষ্ট তথ্য।
ক্রিকেট বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ও বিনিয়োগপ্রবণ ক্রীড়া ক্ষেত্র।সেই বিসিবির কার্যক্রম ঘিরে বারবার দুর্নীতির অভিযোগ ও দুদকের টানা অনুসন্ধান কেবল ক্রিকেট নয়, পুরো ক্রীড়াঙ্গনের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। এবার তৃতীয় বিভাগের মতো অপেক্ষাকৃত নিচু স্তরের টুর্নামেন্টও তদন্তের আওতায় এসেছে,যা বোর্ডের সর্বস্তরে নজরদারির ইঙ্গিত।
এখন দেখার বিষয়,বিসিবি ঘিরে এই অনুসন্ধান কী মোড় নেয় এবং দুর্নীতির অভিযোগে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।
মতামত দিন