অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার পর ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল নূরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর আলোচিত কিশোরী আমিনা খাতুন হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ নূরাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। একই অভিযানে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

এর ফলে মামলায় এখন পর্যন্ত মোট সাতজন আসামি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে এসেছে।

শনিবার সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক। তিনি জানান, গোয়েন্দা নজরদারি ও একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতে গাজীপুরের মাওনা এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন সরাসরি ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনজনের বিরুদ্ধে ঘটনার পর স্থানীয় সালিশ ও বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাকি দুজন এখনো পলাতক; তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধান অভিযুক্ত নূরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছিলেন। সীমান্তের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় তাকে আটক করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে আমিনাকে তার বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত ১ মার্চ শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। নতুন করে আটক নূরা ও হযরত আলীকেও রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মতামত দিন