অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে রাতের অন্ধকারে জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও রাষ্ট্রীয় গেজেটে স্বীকৃত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার বদুরপাড়া এলাকায় সংঘটিত এ হামলায় তিনি আহত হন।
একই ঘটনায় মাঈনউদ্দীন নামের আরেক যুবকও জখম হয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে বদুরপাড়া পাক্কাদোকান এলাকা থেকে পেট্রোল পাম্পমুখী সড়কে চলার সময় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যে অতর্কিত আক্রমণে দুজনই আহত হন। হামলাকারীরা পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এই হামলার পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক জুলাই যোদ্ধা জানান, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের আলোচিত প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে যে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল, সেটিই হামলার কারণ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এলডিপি প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যারা গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের ওপর হামলা হলে পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মাঈনউদ্দীনের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে এনসিপি নেতা হাসান আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, চন্দনাইশে তার ঘনিষ্ঠ একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলার খবর কোনোভাবেই তিনি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না। তার ভাষায়, এটি পরিকল্পিত হামলা এবং এর পেছনে স্বৈরাচারী শক্তির অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, হাসান আলী আগে এনসিপির প্রার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপি প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুককে সমর্থন দেন।

মতামত দিন