অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

বনশ্রীর স্কুলছাত্রী হত্যায় প্রেম প্রস্তাবের জেরে নৃশংসতার তথ্য মিলল।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর বনশ্রীতে এক স্কুলছাত্রীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এক রেস্তোরাঁ কর্মী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করার পাশাপাশি ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন।

রোববার গভীর রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলার বড় সিংগা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. মিলন মল্লিক নামের ওই যুবককে। তিনি বনশ্রীর একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন।

র‌্যাব-৩ জানায়, নিহত স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলির পরিবারের সঙ্গে মিলনের পরিচিতি ছিল। সেই সূত্রে লিলির সঙ্গে তার যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি বিভিন্নভাবে তরুণীটির কাছে প্রেমের আগ্রহ প্রকাশ করতে থাকেন। এমনকি পরিবারের অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে লিলিকে বাসায় একা পেয়ে মিলন আবারও তাকে সঙ্গে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু লিলি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সে কখনোই একজন কর্মচারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়বে না। ওই সময় তার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মিলন।

র‌্যাব জানায়, প্রত্যাখ্যান ও অপমানের ক্ষোভ থেকেই ওই সময় লিলিকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। ঘটনার বিস্তারিত ও অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এর আগে শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ২/১ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার লিলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খিলগাঁও থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক আলামতে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ধারণা করা হয়, দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে হত্যাটি ঘটে।

নিহত লিলি বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে বাবা-মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে ওই বাসায় থাকত। তার বাবার একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে বনশ্রী এলাকায়। পরিবারের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়।

মতামত দিন