অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

৫০ লাখের নিচে ডাকাতি করতেন না সাগর, গ্রেপ্তার হয়ে জানালেন নিজের কৌশলের কথা।

কারাগারে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অঞ্চলের বন্দীদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সাগর বাড়ইয়ের (৪০)। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই গড়ে তোলেন একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র।

সূত্র জানায়, কারাগারে পরিচিত বন্দীদের সূত্রে তিনি পেতেন বড় অঙ্কের টাকা পরিবহনের খবর। এরপর তাঁর দল সেসব লোকজনকে রাস্তায় অস্ত্রের মুখে আটকিয়ে টাকা লুট করত।

পুলিশ জানায়, সাগর দাবি করেছেন—তাঁরা ৫০ লাখ টাকার নিচে কোনো অভিযান পরিচালনা করতেন না। পাশাপাশি কোনো বাড়িতে হানা দিতেন না।

ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা এই ডাকাত দলের সদস্য সাগর বাড়ইকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, সাতটি গুলি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

২২ মার্চ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মহিষ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭৮ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান  এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, ওই ঘটনায় এর আগেই মিলন ও ইসমাইল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের জবানবন্দির ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ঢাকার খিলগাঁও এলাকা  থেকে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেখানো জায়গা থেকে মির্জাপুর মহাসড়কের পাশের জঙ্গল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. আহসানুজ্জামান বলেন, সাগর বাড়ইয়ের বাড়ি গোপালগঞ্জে। তাঁর  বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অস্ত্র, দস্যুতা ইত্যাদি অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।

জিজ্ঞাসাবাদে সাগর জানান, তিনি কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারে পাঁচ বছর বন্দি ছিলেন এবং বছরখানেক আগে মুক্তি পান। এরপর আট–দশ সদস্যের একটি ডাকাত দল গঠন করেন। বিভিন্ন এলাকার কারাবন্দীদের সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে যেসব লোকজন বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে চলাচল করতেন, তাঁদের তথ্য পেতেন। এরপরই তাঁর দল পরিকল্পনা করে রাস্তায় অস্ত্রের মুখে সেই অর্থ ছিনিয়ে নিত।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সাগরের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেছেন এসআই  মোখলেসুর রহমান। ইতিমধ্যে ডাকাতি মামলায় ১০ দিনের এবং অস্ত্র মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মতামত দিন