চারটি ল্যাপটপের দাম ১১ লাখ টাকা! প্রশ্ন উঠছে ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একটি প্রকল্পে মাত্র চারটি ল্যাপটপ কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ১১ লাখ টাকা—যার প্রতিটির দাম পড়েছে পৌনে তিন লাখ টাকা। ‘বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্ট (বি-স্ট্রং)’ নামের এ প্রকল্পে প্রায় ১,৯০০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগে মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের ৩৬টি এলজিইডি কার্যালয়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু হয় অভিযান। পরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার এলজিইডি কার্যালয়ে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা জানান, প্রকল্প শুরুর আগেই ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশে অস্বাভাবিক দামে কেনাকাটার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।
তিনি বলেন, “বি-স্ট্রং প্রকল্পের এখনো আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়নি। তবে একনেকে অনুমোদনের আগেই এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের তথ্য পেয়ে আমরা অনুসন্ধানে নামি। চারটি ল্যাপটপ কেনায় ১১ লাখ টাকা, স্ট্রিট সোলার লাইটে প্রতিটির দাম দেখানো হয়েছে ৭২ হাজার টাকা—যার প্রকৃত প্রয়োজনই নেই।” এছাড়া ৬০টি মোটরসাইকেলের প্রস্তাব থাকলেও পরিকল্পনা কমিশন থেকে অনুমোদন দেওয়া হয় ৩৬টির।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও ২৬০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জেলা—চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুনর্বাসনের জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে এলজিইডির সহকারী প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি, কেবল একনেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “যেখানে অনিয়ম হয়েছে, সেখানেই সংশ্লিষ্টদের বরখাস্ত করা হচ্ছে।”
এদিকে, নওগাঁয় এলজিইডির রাস্তার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় অভিযানে সংশ্লিষ্ট স্থানে অসঙ্গতি পাওয়ার কথা জানায় দুদক। একইদিন নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাজশাহী ও কিশোরগঞ্জের এলজিইডি কার্যালয়গুলোতেও অভিযান চালানো হয়। এসব জেলায় চলমান ও বিগত পাঁচ বছরের প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে তৃতীয়পক্ষের অবৈধ হস্তক্ষেপ চলছে নিয়মিত।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত দিন