জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

দশ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ইউনূস, সমাবর্তনে পেলেন ডি.লিট।

দীর্ঘ এক দশক পর নিজ কর্মস্থল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১৪ মে) দুপুরে পঞ্চম সমাবর্তনে  যোগ দিতে গাউন পরিহিত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করেন তিনি।

পুরোনো প্রাঙ্গণে ফেরার আনন্দ যেন ফুটে উঠেছিল তাঁর মুখভরা হাসিতে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় এই আয়োজনে অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লেটারস (ডি.লিট) ডিগ্রি প্রদান করা হয়। প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সমাবর্তন, যেখানে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ডিগ্রি নিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৫৮৬ জন গ্র্যাজুয়েট, যার মধ্যে রয়েছেন ৪২ জন পিএইচডি ও ৩৩ জন এমফিল ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীও।

১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। মাত্র তিন বছর পর, ১৯৭৫ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোবেল পুরস্কার জয়ের পর ২০০৬ সালে তিনি সর্বশেষ সমাবর্তনে অংশ নেন। এরপর ২০১৫ সালে অর্থনীতি বিভাগ পরিদর্শনে এসেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার তিনি ফের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলেন, সেটিও এক স্মরণীয় সমাবর্তনের উপলক্ষে।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য ড. মো. ইয়াহইয়া আখতার। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন উপদেষ্টা। মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে দুপুর ২টায় এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় সমাবর্তন শোভাযাত্রা, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ জন শিক্ষক অংশ নেন, তবে নিরাপত্তার কারণে গ্র্যাজুয়েটদের রাখা হয়নি ওই শোভাযাত্রায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষের জন্য। সমাবর্তন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রায় এক লাখ অংশগ্রহণকারী—শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক ছাত্র এবং অতিথির উপস্থিতিতে পুরো চবি ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দেড় লাখ বর্গফুটের একটি অত্যাধুনিক প্যান্ডেল, যেখানে মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সকাল থেকেই নির্ধারিত বাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে শুরু করেন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা। অনেকেই এসেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, এ দিনটিকে জীবনের এক অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত করতে।

মতামত দিন