ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ দেশের ইতিহাসে প্রথমবার একসাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়েছে।
এদিন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ সংক্রান্ত গণভোটে ভোট দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ভোট দেন রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে।
ইলেকশন কমিশন জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে (একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পতিত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
মোট ২ হাজার ২৮ প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যারা ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ২৯১ আসনে লড়ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ২৫৮ প্রার্থী, জামায়াত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ২২৯ প্রার্থী, জাতীয় পার্টি ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে ১৯৮ প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ৩২ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এবারের নির্বাচনে মোট ৮১টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থার মাধ্যমে ৫৫ হাজার ৪৫৪ দেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছেন ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষক। পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
দেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে কিছু অস্থায়ী কেন্দ্রও রয়েছে। মোট ভোটকক্ষ বা বুথ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। পুরুষ ভোটকক্ষ প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারী ভোটকক্ষ প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে ঢাকা বিভাগে, এবং সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গাজীপুর-২ আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা অন্যান্য আসনের তুলনায় অনেক বেশি।
২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।
এবার ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট দেওয়া হয়েছে। একটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, আর অন্যটি সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদন বিষয়ে ভোটের জন্য।
নির্বাচনের নিরাপত্তায় ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১ লাখ ৩ জন, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন। এছাড়া ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। নৌবাহিনী উপকূলীয় ১৭টি আসনের ২৪টি উপজেলায় ও দুটি সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালন করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ২ হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনী অপরাধ হলে বিচারিক হাকিমরা দ্রুত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার (সামারি ট্রায়াল) সম্পন্ন করবেন এবং প্রতিবেদন ইসি সচিবালয়ে উপসচিব বরাবর পাঠাবেন।
এইভাবে দেশের ইতিহাসে প্রথমবার একসাথে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মতামত দিন