গণভোট সামনে রেখে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রচারণা জোরদার করার নির্দেশ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিতব্য সংবিধান সংস্কার বিষয়ক গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আলোকে আয়োজিত এই গণভোট সম্পর্কে ভোটারদের অবহিত করতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় দৃশ্যমান প্রচারণা চালাতে হবে। একই নির্দেশনা দুই অধিদপ্তরের অধীনস্থ সকল শিক্ষা দপ্তরকেও অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণভোটের নির্ধারিত লোগো সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রতিষ্ঠানের সামনে বা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে টানাতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন-পূর্ব সময় পর্যন্ত সরকারি দপ্তরের সব ধরনের দাপ্তরিক চিঠি, আদেশ ও নথিপত্রে ওই লোগো ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সোমবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, গণভোটকে ঘিরে নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের সামনে কমপক্ষে দুটি করে খাড়া ব্যানার স্থাপন করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠিতে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড ব্যবহার করে গণভোটের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ রয়েছে।
চিঠিগুলোতে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দিকনির্দেশনার আলোকে এই প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে জনগণের সরাসরি মতামত জানতেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে— প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা, জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ চালু, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ অংশগ্রহণ এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
সচেতনতামূলক ব্যানার ও প্রচারসামগ্রীতে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মত প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে— পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এবার জনগণের হাতে।

মতামত দিন