ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করার কারণে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বন্দি নারী, অতপর...
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার দক্ষিণ টিয়াখালী (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসরাত জাহান সোনিয়া ২০১৮ সালে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করার কারণে গুরুতর ভোগান্তির সম্মুখীন হন। সেই ঘটনার পর তিনি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন এবং সাত বছর চার মাস ত্রিশ দিনের সংগ্রামের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।
সোনিয়ার পেটের সন্তান তখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বর্তমানে সেই শিশুর বয়স সাত বছর পেরিয়েছে। সন্তান বুঝতে শুরু করছে, কেন তার মায়ের সঙ্গে এমন কষ্টকর সময় কাটতে হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। এরই মধ্যে ৩ আগস্ট নুসরাত অন্য কারও লেখা একটি পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করেন।翌 রাতেই ৪ আগস্ট তাকে কলাপাড়া থানায় আটক করা হয়। পরদিন, ৫ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ৬ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
নুসরাত জানালেন, “আমার অংশগ্রহণ ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন করার জন্য। কিন্তু সেই অপরাধ হিসেবে আমাকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ১২ ঘণ্টা ধরে থানায় রাখা হয়েছিল। কারও সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি, হাত-পা ফুলে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল আমি কোনো বড় অপরাধ করেছি।”
আটক ও স্থানান্তরের সময় তিনি কলাপাড়া থেকে পটুয়াখালী জেলে নেওয়া হচ্ছিল। বাবার ও স্বামীর অনুরোধে একটি মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা করা হয়। মাইক্রোবাসে সাত-আটজন পুলিশ থাকলেও ভিড়ের কারণে বসার জায়গা সংকীর্ণ ছিল। পুরো পথ পুলিশ সদস্যরা হাসি-তামাশা করতে করতে চলেছেন।
মামলায় অভিযোগ ছিল, নুসরাত পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র রাখা, পুলিশের ওপর নজর রাখা এবং আত্মরক্ষার জন্য ব্যাগে মরিচ গুঁড়া বা ছোট ইট রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
নুসরাত বলেন, “সেই সময়গুলো বলতে গেলে অন্ধকারে কাটিয়েছি। কোনো স্বাভাবিক জীবন ছিল না। এলাকার মানুষদের মধ্যেও ভীতি বিরাজ করত। আমি কখনও ভাবিনি যে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।”

মতামত দিন