জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৫ জেলাতেই ছড়িয়েছে নিপাহ ভাইরাস, হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশজুড়ে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলাতেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণের মাত্রা ও মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) আয়োজিত এক আলোচনায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। নিপাহ ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন।

সভায় জানানো হয়, ২০২৪ সালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এর পরের বছর ২০২৫ সালেও একই ভাইরাসে চারজন প্রাণ হারান, যা সংক্রমণের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, নিপাহ সাধারণত শীতকাল থেকে বসন্তের শুরুর দিক পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। তবে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও রোগী শনাক্ত হওয়ায় মৌসুমি ধারণা ভেঙে পড়েছে। এতে খেজুরের কাঁচা রস ছাড়াও অন্য কোনো উৎস থেকে সংক্রমণ ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, ভোলা জেলায় প্রথমবার নিপাহ রোগী শনাক্ত হওয়াও গবেষকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য রোগী এলে দ্রুত সেবা দিতে হাসপাতালগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, মানসিক বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও অচেতন হয়ে পড়ার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

নিপাহ প্রতিরোধে কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়ার পাশাপাশি পাখি বা প্রাণীর কামড় দেওয়া ফল পরিহার এবং সব ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মতামত দিন