বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র ও মৎস্য সম্পদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের তলদেশে প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এই অঞ্চলে আরও গবেষণা চালানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে গভীর সমুদ্র ও ইকোসিস্টেম সংক্রান্ত জরিপ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এই গবেষণা পরিচালনা করেছে গবেষণা জাহাজ আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন, যেখানে আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সংখ্যা ছিল ১৩।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে, যা সমুদ্রের ভারসাম্যের জন্য হুমকি। এছাড়া, দুই হাজার মিটার গভীরে প্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় মাছের সংখ্যা কমছে এবং উড়ন্ত গভীরতায় মাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার মাছ আহরণ করছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০টি ট্রলার সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ করছে। এটি ছোট ও ক্ষুদ্র প্রজাতির মাছের জন্য মারাত্মক।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, এ ধরনের টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সোনার প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে গবেষণায় টুনা মাছের উন্নত সম্ভাবনা এবং সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারি থাকার খবর পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের নির্দেশনা পেয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে গভীর গবেষণা ও নীতি-সাপোর্ট প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ থাকলেও এখনও এই সম্পদ পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়নি।

মতামত দিন