জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে এনইআইআর,আপাতত বন্ধ হচ্ছে না কোনো সচল মোবাইল ফোন।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর বৃহস্পতিবার থেকে দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন করে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে সচল রয়েছে—সেগুলো বৈধ হোক বা অবৈধ—এই মুহূর্তে কোনোটি বন্ধ করা হবে না। এমনকি ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা অবিক্রীত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই তথ্য কমিশনে জমা দেওয়া হলেও সেগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, এনইআইআর কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রবাসীরা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দেশে আসার সময় নিজের ফোনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ দুটি নতুন হ্যান্ডসেট আনতে পারবেন। এসব ফোন নিবন্ধনের জন্য তিন মাস সময় পাওয়া যাবে এবং এই সময়ের মধ্যে হ্যান্ডসেট সচল থাকবে।

তিনি আরও জানান, নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্টসহ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ব্যবহার করা যাবে।

অন্যদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানিয়েছেন, হ্যান্ডসেট আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর এনইআইআর পুরোপুরি কার্যকর হওয়া নির্ভর করছে।

এর আগে অবৈধ বা গ্রে মার্কেটের হ্যান্ডসেট বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মোবাইল ফোন বিক্রেতারা বিক্ষোভ করেন। ওই ঘটনার পর এনইআইআর কার্যক্রম তিন মাস পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সে বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি।

বিটিআরসির ভাষ্য অনুযায়ী, এনইআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে চুরি হওয়া ফোন বন্ধ করা, অবৈধ হ্যান্ডসেটের ব্যবহার কমানো এবং মোবাইল বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোই মূল লক্ষ্য। এই ব্যবস্থায় আইএমইআই, সিম ও আইএমএসআই মিলিয়ে যাচাই করা হয়। তবে এটি কল রেকর্ড, বার্তা বা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এনইআইআর নিজে সরাসরি নজরদারি ব্যবস্থা না হলেও কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের নিরাপত্তা দুর্বল হলে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মতামত দিন