জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিরাপত্তা সতর্কতা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ৫০ ব্যক্তি রয়েছে উচ্চ ঝুঁকিতে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্প্রতি অস্থিরতা ও উদ্বেগের ছায়া স্পষ্টভাবে বেড়েছে। বিশেষত গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যারা সোচ্চার, তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য হামলা শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে প্রয়োগিত আঞ্চলিক কৌশলের অংশ। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আধিপত্যবিরোধী ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করে ‘ছায়া সংগঠন’, ‘ভাড়াটে ক্যাডার’ এবং ডিজিটাল নজরদারি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় তিনটি ধাপ লক্ষ্য করা যায়:
১. সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিদের ‘ভারতবিদ্বেষী’ বা ‘উগ্রবাদী’ হিসাবে চিহ্নিত করে জনবিচ্ছিন্ন করা,
২. তাদের গতিবিধি ও অবস্থান নজরদারি করা,
৩. সুযোগ বুঝে শারীরিক বা ডিজিটাল হামলার মাধ্যমে তাদের নিষ্ক্রিয় করা।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৫০ জন নেতা, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবী, যারা দেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীন মতপ্রকাশে সক্রিয়।

রাজনৈতিক নেতা ও শীর্ষ ব্যক্তিত্ব

১,তারেক রহমান — বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

২,ডা. শফিকুর রহমান — জামায়াতে ইসলামীর আমির

৩,মাহমুদুর রহমান — আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক

৪,ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ — এবি পার্টির শীর্ষ নেতা

৫,মুজিবুর রহমান মঞ্জু — এবি পার্টির শীর্ষ নেতা

৬,নাহিদ ইসলাম — এনসিপির আহ্বায়ক, সরকারের উপদেষ্টা

৭,আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া — সরকারের উপদেষ্টা

৮,আখতার হোসেন — এনসিপি নেতা

৯,নুরুল হক নূর — গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতা

১০,রাশেদ খান — গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতা

ছাত্রনেতা ও তরুণ নেতৃত্ব
১১, হাসনাত আবদুল্লাহ — ছাত্র আন্দোলনের নেতা
১২, সারজিস আলম — ছাত্র আন্দোলনের নেতা
১৩, সাদিক কায়েম — ডাকসু ভিপি
১৪, আবিদুল ইসলাম আবিদ — ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী
১৫, সালাউদ্দিন আম্মার — রাকসুর জিএস
১৬, আরিফুল ইসলাম আদিব — ছাত্রনেতা
১৭, আব্দুল হান্নান মাসউদ — ছাত্রনেতা
১৮, ফাতেমা তাসনীম ঝুমা — ডাকসুর নেত্রী
১৯, বিন ইয়ামিন মোল্লা — ছাত্রনেতা

ধর্মীয় অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব
২০, মাওলানা মামুনুল হক — হেফাজতে ইসলামের নেতা
২১, মুফতি রেজাউল করীম — ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির

অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা
২২, ইকরামুল হাসান ফাহিম ফরাজী — মঞ্চ-২৪
২৩ আলী আহসান জুনায়েদ — আপ বাংলাদেশ (আপ) আরোও অনেকে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ‘হিটলিস্ট’ প্রচলন দেখা গেছে, যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং অনলাইন হুমকি ছড়ানো হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যাতে স্বাধীন কণ্ঠশক্তি সীমিত করা যায়।

সরকার ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বেষ্টনী, সশস্ত্র বডিগার্ড এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সেফ হাউস ব্যবস্থা করছে। সীমান্ত এবং রাজধানী ঢাকা অঞ্চলে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল কূটনীতির নয়; এটি সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত। তাই যারা আধিপত্যবিরোধী বক্তব্য রাখে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মতামত দিন