আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস।
আজ ১৬ ডিসেম্বর—মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর চূড়ান্ত পরাজয় মেনে নেয় দখলদার বাহিনী।
দিনটি ঘিরে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ। লাল-সবুজের রঙে সাজানো হয়েছে শহর ও জনপদ। সরকারি ছুটির দিনে সকাল থেকেই নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ।
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে জাতির বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা শ্রদ্ধা জানায়। পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়কদ্বীপ ও ভবনগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
সড়কের মোড়ে মোড়ে, পাড়া-মহল্লায় এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আজ বাজছে মুক্তিযুদ্ধের অমর গান। বাড়ির ছাদ, দোকানপাট, অফিস-আদালত এমনকি যানবাহনেও শোভা পাচ্ছে লাল-সবুজ পতাকা। জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একাত্তরের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন।
মতামত দিন