শিশু সাজিদ কখন মারা গেছে, যা জানিয়েছিলেন চিকিৎসক।
রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের জন্য খোঁড়া সরু গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছর বয়সী সাজিদের জীবন শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা গেল না। প্রায় ৩২ ঘণ্টা লড়াইয়ের পর তাকে গর্তের ৬০ ফুট নিচ থেকে তুললেও চিকিৎসকেরা জানান—হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটি মারা যায়।
চিকিৎসকের ব্যাখ্যায়, গর্তের ভেতরের প্রচণ্ড ঠান্ডা ও দীর্ঘ সময় অক্সিজেন না পাওয়া—এই দুই কারণই শিশুটির মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে।
উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এটা ছিল খুবই কঠিন ও আবেগের উদ্ধার অভিযান। পাইপের ব্যাস ছিল মাত্র ৬-৮ ইঞ্চি। স্থানীয়রা আগে থেকেই পাইপে নামার চেষ্টা করায় ভেতরে মাটি-খড়কুটো জমে শিশুটি আরও নিচে সরে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “শেষ মুহূর্তে তাকে উপরে তোলার সময় আমাদের নিজেদেরও কান্না ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
তবে শিশুটির নানা আইয়ূব আলীর দাবি আলাদা। তার ভাষায়, “তোলার সময় সে নড়ছিল। ফায়ার সার্ভিসের ছেলেরাও বলছিল বাচ্চাটা বেঁচে আছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেল।” এরপর মরদেহটি তানোরের কুড়িরহাট পূর্বপাড়ায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার সূত্রপাত বুধবার দুপুরে। মা ও ভাইকে সঙ্গে নিয়ে খড়ের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ নিচে তলিয়ে যায়। খড়ের নিচে যে গভীর নলকূপের মুখ খোলা অবস্থায় রয়েছে—তা কেউ জানতেন না। ‘মা মা’ চিৎকার শুনে ফিরে তাকাতেই মায়ের সামনে খড়ে ঢাকা মৃত্যুফাঁদটি উন্মোচিত হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর ওই জায়গায় গভীর নলকূপ বসানোর চেষ্টা হয়েছিল। পানি না পেয়ে কাজ ফেলে রাখা হয়; পাইপের মুখও কেউ বন্ধ করেনি। পরে বর্ষায় গর্তটি আরও চওড়া হয়ে যায়। কোনো সতর্কতা চিহ্ন না থাকায় শেষ পর্যন্ত ঘটে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।
মতামত দিন