আমন সংগ্রহে সতর্কবার্তা,অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা খাদ্য উপদেষ্টার।
উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসনের বড় একটি অংশ ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকবে। জেলা প্রশাসক থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা—অনেকে প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাই ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্ধারিত পরিমাণ ধান সংগ্রহের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, “লক্ষ্য যত বড়ই হোক, এখনই গতি বাড়াতে হবে।"
তিনি জানান, ধান সংগ্রহে সঠিকভাবে লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে মিলারদের অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে। এতে স্থানীয় বাজার থেকে পর্যাপ্ত ধান–চাল মজুত রাখা সহজ হবে, পাশাপাশি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। “আমাদের লক্ষ্য শুধু টার্গেট পূরণ নয়, বরং সর্বোচ্চ সংগ্রহ নিশ্চিত করা,”—যোগ করেন উপদেষ্টা। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, চলতি বছরের বোরো মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ শস্য সংগ্রহ হয়েছিল, যা এবারও ধরে রাখতে হবে।
সভায় জানানো হয়, চলমান আমন সংগ্রহ অভিযান আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। কোনো কৃষক ধান নিয়ে গুদামে এলে তাঁকে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু আর্দ্রতা মানদণ্ডে না পড়লে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে—তবে অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে বস্তাবন্দি নষ্ট বা দুর্গন্ধযুক্ত চাল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন উপদেষ্টা।
কৃষকদের সুবিধার কথা তুলে ধরে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, এ মৌসুমে ধান–চাল কেনার দাম বাড়ানো হয়েছে—ধান প্রতি কেজি ৩৪ টাকা, সিদ্ধ চাল ৫০ টাকা এবং আতপ ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দায়িত্ব শেষ হওয়ার সময় দেশে প্রয়োজনীয় মজুতের চেয়েও বেশি ধান রাখা সম্ভব হবে।
খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবির জানান, মিলারদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ধান–চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি ধাপ কড়াভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় দেবিদ্বার উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলএসডি যাওয়ার রাস্তার সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। দ্রুত সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসককে সড়ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।

মতামত দিন