ভারত যে দু’টি প্রধান কারণে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে সহিংস দমন-পীড়নের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সেই আন্দোলনের চাপেই তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পতন ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় তিনি গত বছরের আগস্টে ভারতে আশ্রয় নেন।
দীর্ঘ সময় ধরে শেখ হাসিনা ছিলেন নয়াদিল্লির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আঞ্চলিক অংশীদারদের একজন। তাঁর সরকার ভারতের বিরুদ্ধে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম দমনে ভূমিকা রেখেছিল। নরেন্দ্র মোদি বহুবার তাঁর প্রশংসা করেছেন দুই দেশের সীমান্তকে স্থিতিশীল রাখার জন্য। কিন্তু হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় দিল্লিতে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে উগ্রপন্থী দলগুলোর পুনরুত্থান নিয়ে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা ভারতের সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুণায়েত বলেছেন, শেখ হাসিনাকে জেল বা মৃত্যুদণ্ডের মুখে ঠেলে দিতে ভারত তাকে ফেরত পাঠাবে—এমন ধারণা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাঁর মতে, ভারতের হাতে এমন যুক্তি রয়েছে যাতে তারা পরিষ্কারভাবে বলতে পারে যে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আনা হয়েছে।
ভারতের প্রত্যর্পণ আইন এবং বাংলাদেশ–ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি—উভয় ক্ষেত্রেই “রাজনৈতিক অপরাধ” হিসেবে বিবেচিত মামলাগুলোকে বাদ দেওয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। অর্থাৎ, কোনো অভিযোগ যদি রাজনৈতিক চরিত্রের হয়, তবে ভারত সেটি প্রয়োগ না করার পূর্ণ আইনি অধিকার রাখে।
ত্রিগুণায়েতের ভাষায়—“ভারতকে এই মামলাকে রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখতে হবে, মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে নয়—যে অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা এখনো সব আইনি পথ শেষ করেননি। তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও যেতে পারবেন। ফলে, ভারতের দৃষ্টিতে এখনই তাঁকে ফেরত পাঠানো তাড়াহুড়োর কাজ নয় বলে ওই কূটনীতিক মনে করেন।

মতামত দিন