দেশের কিছু অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার।
দেশের কিছু অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। পানি সংকটাপন্ন এলাকায় সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা এবং জলাধার সংরক্ষণের জন্য গত ২৮ অক্টোবর এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেটে এই ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী যথাযথ অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা জরিপের ভিত্তিতে কিছু এলাকা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংকটাপন্ন এলাকার অবস্থা:
-
উত্তর পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ):
২৫টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়ন – অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন
৪০টি ইউনিয়ন – উচ্চ পানি সংকটাপন্ন
৬৬টি ইউনিয়ন – মধ্যম পানি সংকটাপন্ন
-
চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলা:
পটিয়া পৌরসভার ৫টি মৌজা – অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন
৩টি মৌজা – উচ্চ পানি সংকটাপন্ন
৩টি ইউনিয়নের ৭টি মৌজা – অতি উচ্চ
৮টি ইউনিয়নের ৩০টি মৌজা – মধ্যম পানি সংকটাপন্ন
৯টি ইউনিয়নের ২৭টি মৌজা – উচ্চ
পানি সংকটাপন্ন এলাকায় অনুসরণীয় নির্দেশনা:
১. পানি সম্পদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
২. খাবার পানি ব্যতীত নতুন নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ থাকবে; বিদ্যমান নলকূপে শুধুমাত্র খাবার পানি সরবরাহ অনুমোদিত।
৩. ভূগর্ভস্থ পানি নির্ভর শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না।
৪. খাল, বিল, পুকুর, নদী বা অন্য কোনো জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না; জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
৫. খাস জলাশয় ইজারা দেওয়া নিরুৎসাহিত।
৬. জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত করা যাবে না।
৭. কোনো জলাধারের পানি সম্পূর্ণ নিঃশেষ করা যাবে না।
৮. ভূমি বা পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকারী কাজ করা যাবে না।
৯. নদী, জলাশয়, লেক, জলাভূমিতে বর্জ্য নিষ্কাশন ও দূষণ করা যাবে না।
১০. অধিক পানি নির্ভর ফসল উৎপাদন সীমিত করতে হবে; পানি সাশ্রয়ী ফসল চাষের পরামর্শ দেবে সরকার।
১১. জনসাধারণের পানীয় পানি ও গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা লঙ্ঘন বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
মতামত দিন