যশোরের গদখালী ফুলবাজার মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলা গদখালী ফুলবাজার অবশেষে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন থেকে ফুলের বেচাকেনা হবে গদখালী ফুল বিপণন কেন্দ্রে।
স্থানীয় কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে, যশোর জেলায় প্রায় সাত হাজার ফুলচাষি ১২শ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করেন। এর মধ্যে গদখালী, পানিসারা, নির্বাসখোলা ও নাভারণ এলাকাতেই প্রায় সাড়ে ছয়শ হেক্টর জমিতে ফুল উৎপাদন হয়। এখান থেকেই দেশের ফুলের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করা হয়।
গদখালীর বিশাল মাঠজুড়ে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, রডস্টিক, ক্যালেন্ডোলা ও জিপসির মতো নানা প্রজাতির ফুলের চাষ হয়। কিন্তু এতদিন মহাসড়কের দুই পাশে বাজার বসার কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। বিশেষ করে ভোররাতের বেচাকেনার সময় ট্রাক চলাচলের ভিড়ে অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দশক ধরে তারা মহাসড়কের ধারে ফুল বিক্রি করছিলেন। ঝুঁকিপূর্ণ সেই অবস্থার অবসান ঘটায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এখন ফুল বিপণন কেন্দ্রে নিরাপদে বেচাকেনা করা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যশোরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা জানান, ২০১৯ সালে গদখালী ফুলবাজারের পাশে বিপণন কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলেও নানা সমস্যার কারণে চালু করা যায়নি। গত এক বছর ধরে তিনি কেন্দ্রটি সচল করতে চেষ্টা চালিয়ে যান। উপজেলা প্রশাসন, জেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করা হয়।
তার ভাষায়, “স্থান সংকট, রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব—এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়েছে। এখন বিপণন কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত।” ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি বাজারের সামনে দুই বিঘা জমিও ইজারা নিয়েছে।
গদখালী ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, “এখন আমরা ঝুঁকি ছাড়াই ব্যবসা করতে পারব। নতুন জায়গায় একটু সময় লাগবে মানিয়ে নিতে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে সবার জন্যই ভালো হবে।”
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার জানান, স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে বাজার স্থানান্তরের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। তার মতে, এই পদক্ষেপে দেশের বৃহত্তম ফুলবাজার এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাজারের পরিসর আরও বাড়াতে সাহায্য করবে।
মতামত দিন