ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাঠাবে পূর্ণাঙ্গ ২০০ সদস্যের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে একটি বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ঢাকায় রাষ্ট্র অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি জানান, পর্যবেক্ষক দলের সদস্য সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০ জন হতে পারে। কিছু সদস্য ভোটের ছয় সপ্তাহ আগে, বাকিরা এক সপ্তাহ আগে দেশে আসবেন।
মিলার বলেন, ভোট চলাকালীন স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগেও ইইউ সহায়তা করবে। বৈঠকে শাসন ও সাংবিধানিক সংস্কার, নির্বাচন প্রস্তুতি, বিচার ও শ্রম সংস্কার, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জুলাই জাতীয় সনদকে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। শ্রম আইন সংস্কার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারকেও মিলার উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখেছেন।
ইইউ ভোট প্রক্রিয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়তা করবে বলে জানান মিলার। তিনি আসন্ন নির্বাচনের সুযোগকে “দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের” মাধ্যমে মূল্যায়ন করেন।
দুই পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি, বিমান ও নৌ পরিবহন খাতে নতুন সম্ভাবনা এবং মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় এ.পি. মোলার–মার্স্কের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে এটিকে আধুনিকতম টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তুলবে।
বৈঠকে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থী যোগ্যতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মতামত দিন