কুড়িগ্রামে নদীতে ভেসে আসা লালচে গাছের গুঁড়ি: ‘চন্দন কাঠ’ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
কুড়িগ্রামে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার ভোর থেকে ভারতের দিক থেকে কালজানি নদীর স্রোতে ভেসে এসেছে অজস্র গাছের গুঁড়ি।
অনেকে জীবন ঝুঁকিতে ফেলেও নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এসব গুঁড়ি তুলে আনছেন। পরে এগুলো নদীর তীরে স্তূপ করে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, একেকটি গুঁড়ির দাম ২০–৩৫ হাজার টাকা, কিছু কাণ্ডে এক লাখেরও বেশি।
জেলা বন বিভাগ জানিয়েছে, এগুলো প্রকৃত চন্দন কাঠ নয়। দীর্ঘদিন পানিতে থাকার কারণে লালচে-বাদামি রঙ ধারণ করেছে।
সংগ্রহের সময়ও বিপদ দেখা দিয়েছে। রোববার সকালে মনছুর আলী (৪০) নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কালজানি ও দুধকুমার নদীর পাড়ে গুঁড়িগুলো স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কেউ এগুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন, কেউ আবার মণ হিসেবে বিক্রি করছেন।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞানী মীর্জা নাসির উদ্দিন বলেন, কাঠে থাকা ট্যানিন ও ফেনলিক যৌগ পানিতে ভিজে লালচে রঙ ধারণ করে। তাই এটি চন্দন কাঠ নয়।
জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান সতর্ক করেছেন, লালচে গুঁড়ি হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। মানুষজন সাবধানে থাকা দরকার।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ আরও জানিয়েছেন, উজান ঢলের সঙ্গে গুঁড়িগুলো ভেসে আসছে এবং সাপও উপস্থিত রয়েছে। তাই নদীতে গুঁড়ি তুলতে গিয়ে বিপদ এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মতামত দিন