জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক:দুদিনে নতুন আক্রান্ত ৬, মোট রোগীর সংখ্যা ২২।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।মাত্র দুদিনের মধ্যে আরও ৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২।

এতে স্থানীয় গরু মালিক ও গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বেলকা ও কিশামত গ্রামের কয়েকজন। এদের মধ্যে রুজিনা বেগম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। কিছু রোগীর হাত ও চোখে ফোসকা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মোজাফ্ফর আলীর বাঁ চোখ গুরুতরভাবে আক্রান্ত। তিনি জানিয়েছেন, আক্রান্ত গরুর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়ার দুইদিন পর লক্ষণ দেখা দেয়। চিকিৎসার জন্য তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও পর্যাপ্ত ওষুধ পাননি এবং বাইরে থেকে কিনে খাচ্ছেন।

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তদের চিকিৎসায় ১০ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক প্রিসক্রিপশন দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক জানিয়েছেন, “অল্প সময়ের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে যাবে, তবে জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দে বলেন, “গরু ও ছাগলকে অ্যানথ্রাক্সের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠক চলছে। সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়।”

এদিকে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের দল রংপুর ও গাইবান্ধার অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের উৎস  ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য মাঠে কাজ করছে।

অ্যানথ্রাক্স কী?
অ্যানথ্রাক্স হলো একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এটি সাধারণত গবাদি পশু, ছাগল, ভেড়া ও ঘোড়ার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের সংক্রমণও হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

মতামত দিন