পদ্মায় ভাঙনে বিলীন শরীয়তপুরের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়,শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ।
নদীর ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের আবেদন ও আশঙ্কা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়টি হারিয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে এক বছর পর থেকেই পাঠদান শুরু হয়।বিদ্যালয়ের পাশে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদী প্রতি বছর বর্ষায় নতুন ভাঙন তৈরি করে। ২০২৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিওব্যাগ ফেললেও সেগুলো চলতি বছরের জুনে নদীতে তলিয়ে যায়। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঝুঁকির কারণে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়, এবং সেপ্টেম্বরের শেষ দিকেই পুরো ভবন নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আল মামুন জানান, “আমরা একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভবন ভেঙে যাওয়ায় আপাতত পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ।”
বিদ্যালয় হারিয়ে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এখন পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়েছে। কেউ কেউ দূরের বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী আর নিয়মিত ক্লাসে যেতে পারছে না।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে আশপাশের রাস্তাঘাট, বাজার ও বসতবাড়িগুলোও নদীর পেটে চলে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মুহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, “অবস্থা সামাল দিতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে টেকসই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে রয়েছে।”
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প জায়গায় অস্থায়ী ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।”
শরীয়তপুরের এই নদীগর্ভে হারানো বিদ্যালয়টি এখন শুধু একটি ভবনের গল্প নয়—এটি শতাধিক শিশুর স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে যাওয়ার নিঃশব্দ দলিল।
মতামত দিন