জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

কাঞ্চনজঙ্ঘার আগাম আগমন: পঞ্চগড়ে পর্যটকের ঢল।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

কাশফুলের ছোঁয়া, নীল-সাদা আকাশ আর আশ্বিনের রোদেলা দিনে পঞ্চগড়ের প্রকৃতিতে উঁকি দিচ্ছে পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভোর থেকে সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে বরফে মোড়ানো এই পাহাড়ের অপরূপ রূপ নানা রঙে ধরা দিচ্ছে চোখে।

সাধারণত হেমন্তের অক্টোবরেই প্রতিদিন দেখা মেলে এই শৃঙ্গের। কিন্তু এবার পরিচ্ছন্ন আকাশ আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘা আগেভাগেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ফলে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজারো পর্যটক ছুটে আসছেন তেঁতুলিয়া, মহানন্দা, ভেরসা, ডাকবাংলো কিংবা ডাহুক নদীর পাড়ে—কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপমুগ্ধতায় হারিয়ে যেতে।

সবুজে মোড়া ধানক্ষেত, খোলা নীল আকাশ আর শরতের মায়াবী হাওয়া মিলিয়ে যেন পুরো পঞ্চগড় এক বিশাল প্রাকৃতিক ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে। কখনো মেঘে ঢাকা পড়ে, আবার হঠাৎই ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এ লুকোচুরি খেলায় বিমোহিত হচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসার মুহূর্তে পাহাড় যেন নতুন রঙে আঁকা হয়, আর মুছে যাওয়ার সময় দর্শকের মনে জমে যায় এক অদ্ভুত বিষণ্নতা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোরের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই বহুদিন ধরে তারা উপভোগ করছেন কাঞ্চনজঙ্ঘার স্নিগ্ধ উপস্থিতি। তবে পর্যটকদের জন্য এই অভিজ্ঞতা একেবারেই ব্যতিক্রম—কখনো অধরা, কখনো হঠাৎ ধরা দেওয়া রহস্যময় সৌন্দর্য। এজন্য অনেকে বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখাও নাকি ভাগ্যের ব্যাপার।

বরফগলা পানি থেকে উৎপন্ন চারটি নদী নামছে এখানকার সমতলে। এ কারণে পঞ্চগড়ের পানি বাংলাদেশের অন্যতম সুপেয় হিসেবে খ্যাত। স্থানীয়রা একে বলেন “মিঠা পানি”।

১৮৫২ সালের আগে কাঞ্চনজঙ্ঘাকেই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ধরা হতো। বর্তমানে এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত, যার উচ্চতা ৮ হাজার মিটার বা প্রায় ২৬ হাজার ফুট। ভারত-নেপাল ভ্রমণকারীদের কাছে যেমন কাঞ্চনজঙ্ঘা আকর্ষণীয়, তেমনি পঞ্চগড় থেকেও খালি চোখে দেখা যায় এর মনোমুগ্ধকর শ্বেতশুভ্র রূপ।

তেঁতুলিয়া থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৬৫ কিলোমিটার। স্থানীয়রা বলছেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দিলে দেশজুড়ে পর্যটকের ঢল নামে তেঁতুলিয়ায়, যেন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে পর্যটকের ভিড় বছরজুড়ে থাকলেও এখনো পর্যটন অবকাঠামো ও উন্নয়ন কার্যক্রম আশানুরূপ নয়। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কাঞ্চনজঙ্ঘা, শীতের আমেজ আর কুয়াশার আবেশ এখন পুরো পঞ্চগড়কে করে তুলেছে মায়াবী। তাই যারা এই রহস্যময় পাহাড়ের মোহনীয় সৌন্দর্য দেখতে চান, তাদের জন্য সময় নষ্ট করার অবকাশ নেই। এখনই যাত্রা শুরু করুন, হয়তো ভোরের আলোয় ধরা দেবে মহাশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা।

মতামত দিন