জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় আমনের ধানে মাজড়া পোকার প্রকোপ,চিন্তিত চাষিরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমনের ধান ক্ষেতে মাজড়া পোকা তাণ্ডব চালাচ্ছে। চাষিরা জানিয়েছেন, বারবার কীটনাশক ছিটিয়েও পোকা নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক সহযোগিতার অভাবও সমস্যাকে আরও জটিল করছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা এলাকার কৃষক জানান গত বছর সাত বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন।  তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফসলের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গাছ সবুজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমিতে মাজড়া পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। “গত বছর দুইবার কীটনাশক প্রয়োগে পোকা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু এবার চারবার ছিটিয়েও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না,”বলে অভিযোগ করেন।

চাপড়া, যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেতেও মাজড়া সহ বিভিন্ন ধরনের পোকা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জিকে সেচ প্রকল্প এলাকা এবং আশেপাশের জমিতে গাছের  আগায় পোকা বসে ধান নষ্ট হচ্ছে। সরজমিনে দেখা গেছে, কেউ কীটনাশক ছিটাচ্ছেন, কেউ সার প্রয়োগে ব্যস্ত, কেউ আবার আগাছা পরিষ্কার করছেন। অনেক ধানগাছ মরেও ফাঁকা হয়ে গেছে, আবার কিছু গাছের মাথা লালচে হয়ে উঠেছে। চাষিরা বলছেন, বারবার কীটনাশক ছিটিয়েও পোকা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না, যা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

চাপড়া ইউনিয়নের কৃষক জানিয়েছেন, চলতি বছর প্রতি বস্তা সার কিনতে ৩০০-৫০০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। ওষুধের দামও বেড়ে ১৫০-২০০ টাকা অতিরিক্ত হয়েছে। তারপরও পোকা ধান নষ্ট করছে।আরেক চাষি বলেন, “একবার স্প্রে করতে খরচ পড়ছে চার থেকে পাঁচশ’ টাকা। ইতোমধ্যেই চারবার স্প্রে করেছি, আরও কয়েকবার প্রয়োজন হবে। এইভাবে বারবার স্প্রে করলে মুনাফা পাওয়া সম্ভব নয়।”

অন্য কৃষক জানান সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তিনি জানান, শ্রমিক খরচ, ইজারা, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় খরচ বেড়ে প্রতি বিঘায় ১৮-২২ হাজার টাকা হয়েছে। গত বছর বিঘা প্রতি ফলন ১০-১৫ মণ হলেও চলতি বছর তা ৮-১০ মণের বেশি হবে না।

কৃষি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার অভিযোগ থাকলেও, কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমনের ধানে মাজরা সহ বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ক্ষতি এড়াতে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কুমারখালীতে ১৪,৯৬৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি। জমির ইজারা, বীজ, সার, চাষ ও পরিচর্যার খরচ প্রতি বিঘায় ১৫-১৬ হাজার টাকা। ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রতি বিঘায় ১৫-২০ মণ, যা প্রতি হেক্টরে প্রায় ১.৫ টন চাল দেবে।

মতামত দিন