পঞ্চগড়ে সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী বললেন ম্যাজিস্ট্রেট।
পঞ্চগড়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অপমানজনক ও আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর আজকের কার্যক্রম থেকে তাকে ঘাট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বোদা উপজেলার করতোয়া নদীর আওলিয়া ঘাটে মহালয়া উপলক্ষে শতাধিক যাত্রী বহনকারী নৌকা ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ৭১ জনের মৃত্যু হয়। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সেই দুর্ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হলো। এ উপলক্ষে ৬-৭ জন সাংবাদিক স্থানীয় সংবাদ সংগ্রহের জন্য নৌকায় উঠতে যান।
কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুর রহমান তখন নৌকা পারাপারে বাধা প্রদান করেন। নদীতে একাধিক নৌকা চলাচল করছিল এবং কিছু নৌকায় মোটরসাইকেলও পারাপার হচ্ছিল। কিন্তু সাংবাদিকরা নৌকায় উঠতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, “মোটরসাইকেল নেওয়া যাবে না।” সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, অন্যদের মতো আমরা কেন যেতে পারব না।
এই উত্তরে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “আপনি আল জাজিরার সাংবাদিক হন, অন্য আন্তর্জাতিক সাংবাদিক হন—আমার কাছে তা কোনো ব্যাপার নয়। যেতে পারবেন না।” এরপর কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরও অশালীন ভাষায় বলেন, “আপনারা সন্ত্রাসী।”
স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি নূর হাসান বলেন, “আমরা মহালয়ার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের বাধা দেন। ঘাটে তখন একবারে ফাঁকা ছিল এবং অন্যদেরও মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে দেখা যায়। ইউএনও নিজেও নৌকায় মোটরসাইকেল নিয়ে পার হচ্ছিলেন। তাহলে আমাদের কাকতালীয়ভাবে বাধা দেওয়া কেন?”
দৈনিক আজকের প্রতিবেদক ফাহিম হাসান বলেন, “সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি রেগে গিয়ে বললেন, ‘আপনি যেই সাংবাদিকই হোন না কেন, যেতে পারবেন না’। এরপর আমাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা তো সন্ত্রাসী’। এটা শতাধিক মানুষের সামনে করা অপমান, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।”
এদিকে বোদা ইউএনও রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেননি। বরং তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যা করতে পারেন, করেন।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক সাবেত আলী সাংবাদিকদের জানান, “ম্যাজিস্ট্রেটকে আজকের কার্যক্রম থেকে ঘাটে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।”

মতামত দিন