নির্বাচনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইসি।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন যেমন ব্যস্ত হয়ে উঠছে, তেমনি বাড়ছে হেলিকপ্টারসেবার ব্যবহার। প্রার্থীদের কর্মসূচিতে দ্রুত যাতায়াত, দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কিংবা একদিনে একাধিক সভায় যোগ দিতে হেলিকপ্টার এখন গুরুত্বপূর্ণ বাহনে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের অনুমতি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আচরণবিধি সংশোধন করে জানিয়েছে, এবার শুধু দলীয় প্রধানই নয়, সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের নেতারাও নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে হেলিকপ্টার থেকে প্রচারসামগ্রী ছড়ানো বা ব্যানার ঝোলানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
খাতের বিকাশ ও বর্তমান অবস্থা
১৯৯৯ সালে সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস প্রথম বেসরকারি হেলিকপ্টারসেবা চালু করে। বর্তমানে ১৩টি কোম্পানির বহরে প্রায় ৩৫টি হেলিকপ্টার কার্যক্রমে রয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত হেলিকপ্টারের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অপারেটর হলো স্কয়ার এয়ার, মেঘনা এভিয়েশন, বসুন্ধরা এয়ারওয়েজ, ইমপ্রেস এভিয়েশন, বিআরবি এয়ার, আকিজ, পিএইচপি, বেক্সিমকো এভিয়েশনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
বহুমুখী ব্যবহার
শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কারখানা ভ্রমণ, করপোরেট যাতায়াত, ঈদে বাড়ি ফেরা, বিয়ের আয়োজন, ধর্মীয় মাহফিল কিংবা নাটক-সিনেমার শুটিংয়েও হেলিকপ্টারের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে রোগী পরিবহনে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে। হার্ট অ্যাটাক বা দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সেবা অনেক সময় জীবন বাঁচায়। প্রতিদিন গড়ে অন্তত দুই থেকে তিনটি মেডিভ্যাক ফ্লাইট হচ্ছে বলে অপারেটররা জানিয়েছেন।
ভাড়া ও মৌসুমি চাহিদা
ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টিকে অপারেটররা ‘পিক সিজন’ হিসেবে বিবেচনা করে। এ সময়ে রাজনৈতিক প্রচারণা, করপোরেট ভ্রমণ ও বিদেশি ডেলিগেশনের যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সাধারণত ১০–২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।
-
এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট চার আসনের হেলিকপ্টারের ভাড়া ঘণ্টাপ্রতি ৬৫–৭৫ হাজার টাকা।
-
ছয় আসনের এক ইঞ্জিন মডেলে ভাড়া এক লাখ টাকার বেশি।
-
দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট সাত আসনের হেলিকপ্টারের ভাড়া দুই লাখ টাকার ওপরে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে ভাড়া ৬৬ হাজার থেকে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা
দেশে হেলিকপ্টার ওঠানামা এখনো মূলত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক। তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজের কারণে অস্থায়ীভাবে উত্তরাংশ ব্যবহার হচ্ছে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এছাড়া হাসপাতাল বা করপোরেট ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড নির্মাণে অনুমোদনের জটিলতা থাকায় মেডিভ্যাক সেবা সীমিত আকারে চলছে।
কর-শুল্ক ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা
অপারেটরদের অভিযোগ, হেলিকপ্টারকে এখনো ‘শৌখিন বাহন’ হিসেবে বিবেচনা করায় ভাড়া আয়ের প্রায় অর্ধেক চলে যায় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কে। এর ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পথ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে হেলিপ্যাড ও মেডিভ্যাক হাব তৈরি হলে সেবা আরও সহজ হবে। তবে কর-শুল্কে ছাড়, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব নীতি ছাড়া এই খাত টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে না।

মতামত দিন