শরীয়তপুরে ইলিশ সংকট, বিপাকে ৩৬ হাজার জেলে পরিবার।
সরকারি তথ্য বলছে, গত ছয় বছরে শরীয়তপুরে ইলিশের উৎপাদন কমেছে এক হাজার একশ মেট্রিক টনের বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আহরণ হয়েছিল ৪ হাজার ৬৯৪ টন, যা নেমে এসেছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৫১৮ টনে।
জেলেদের হতাশা
পদ্মা-মেঘনায় ভরসা করে প্রতিদিনই নদীতে নামছেন জেলেরা। কিন্তু ঘন্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও মিলছে সামান্য কিছু ইলিশ। একজন জেলে জানান, সারাদিনে ধরা পড়া মাছ বিক্রি করে পাঁচ-ছয় হাজার টাকার বেশি আসছে না, অথচ নৌকার ১২ জনের খাবার, জ্বালানি আর জাল মেরামত বাবদ খরচ এর দ্বিগুণ। একসময় ইলিশ বিক্রি করে সংসারের সব খরচ সামলানো যেত, এখন তাদের জীবন অনিশ্চয়তায় ভরপুর।
বাজার পরিস্থিতি
স্থানীয় আড়তদারদের দাবি, ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যবসাও টিকছে না।বাজারের এক আড়তদার বলেন, নদীর বুকে চর জেগে ওঠা আর অবৈধ ড্রেজারের কারণে ইলিশের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সঠিকভাবে নদী খনন ও ড্রেজার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে।
সংকটে হাজারো পরিবার
মৌসুমে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় জেলার প্রায় ৩৬ হাজার জেলে পরিবার চরম আর্থিক চাপে রয়েছে। ঋণ শোধ, কিস্তি আর দাদনের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মতে, নদীর তলদেশে বালির স্তুপ জমে চর তৈরি হওয়া, বড় নৌযান চলাচলের কম্পন এবং দূষণ—এসব মিলেই ইলিশের আবাস ও চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পদ্মা-মেঘনায় আবারও ইলিশের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
নিষেধাজ্ঞা
আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে টানা ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণে সব ধরনের জাল ফেলা নিষিদ্ধ থাকবে।

মতামত দিন