তিন মাস পর আবার খোলা হচ্ছে সুন্দরবন।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হবে। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার (জুন-আগস্ট) পর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সেজেছে বনাঞ্চল।
সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পট—করমজল, হারবাড়িয়া, দুবলা, কটকা, কচিখালী, নীলকমল, কালাবগী এবং শেখেরটেক—পর্যটকদের জন্য নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। লঞ্চ ও নৌযানগুলো রঙ করা এবং সংস্কার করা হয়েছে, যাতে ভ্রমণ আরও রোমাঞ্চকর হয়।
এই সময়ে বনাঞ্চল ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা প্রাণবন্ত থাকে—হরিণ, জলজ ও বন্যপ্রাণীর বিচরণ, গাছের ডালে পাখির কিচিরমিচির—সবই পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ায়। ভাগ্য ভালো হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও দেখা মিলতে পারে।
খুলনা বিএল কলেজের শিক্ষার্থী হাবিবুল ইসলাম ১ সেপ্টেম্বর বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণে যাবেন। তিনি বলেন, “পরিবারের সঙ্গে আগেও সুন্দরবন ভ্রমণ করেছি। এবার বন্ধুদের সঙ্গে যাচ্ছি। তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবন নতুন রূপে দেখা যায়, তাই প্রথমে এখানেই যাচ্ছি।”
চাকরিজীবী সুলতান আহমেদ ৫ সেপ্টেম্বর পরিবারসহ সুন্দরবন ভ্রমণে যাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, “তিন বছর আগে অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে গিয়েছিলাম। এবার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি সময়টা আনন্দময় হবে।”
ট্যুর অপারেটররাও প্রস্তুতি শেষ করেছেন। খুলনার জেলখানা ঘাট থেকে ছোট-বড় প্রায় ৭০টি জাহাজ সুন্দরবনে যাবে। ফেমাস ট্যুর কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানজীর হোসেন রুবেল বলেন, “এই তিন মাসে আমরা জাহাজগুলো নতুনভাবে সংস্কার করেছি। এবার ভ্রমণ আরও রোমাঞ্চকর হবে, বিশেষ করে প্রথম সময়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য চোখে পড়ে।”
অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম ডেভিড বলেন, “প্রায় ৭০টি জাহাজ প্রস্তুত। আশা করছি, সুন্দরবনপ্রেমীরা এবছরও বনাঞ্চলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।”
সুন্দরবনে প্রতিবছর গড়ে দুই লক্ষাধিক দেশি ও বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ খাত থেকে বছরে প্রায় চার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

মতামত দিন