জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

ভরা মৌসুম হলেও পদ্মা নদীতে আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না, জেলেরা হতাশ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ভরা মৌসুমেও ফরিদপুরের সদরপুর অংশে পদ্মা নদীতে ইলিশ মিলছে অপ্রতুল পরিমাণে। প্রতিদিন জাল  ফেলে অনেক জেলে খালি হাতে ফিরছেন।

যে কয়টা মাছ ধরা পড়ছে, তার বেশিরভাগই আকারে ছোট। বড় ইলিশ খুব কম পাওয়া যাওয়ায় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, হঠাৎ নদীর পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় পদ্মায় ইলিশের আসা-যাওয়া কমে গেছে। এ ছাড়া মেঘনা নদী ও সাগরে বেশি পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় পদ্মার দিকে মাছ ঢুকতে পারছে না।

উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্যানুসারে, সদরপুরের চারটি ইউনিয়নে প্রায় সাত হাজার পরিবার ইলিশ  শিকারের সঙ্গে জড়িত। তবে সরকারিভাবে নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলে সংখ্যা মাত্র ছয় শতাধিক।

স্থানীয় এক জেলে জানান, “দিনের পর দিন নদীতে যাচ্ছি, কিন্তু জাল প্রায় খালি নিয়েই ফিরতে হয়। যে অল্প কিছু পাই, তা বিক্রি করে খরচও উঠে না।” আরেক জেলে বলেন, “আমাদের প্রধান পেশাই ইলিশ ধরা। এখন মাছ না থাকায় সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়ছে।”

বাজারেও প্রভাব পড়েছে এই সংকটের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, “দশ বছর আগে নদীতে ইলিশে ভরপুর ছিল, দামও সাধারণ মানুষের নাগালে ছিল। এখন মাছ কম, দাম কয়েক গুণ বেশি।” বর্তমানে পদ্মার এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকায়, ছোট আকারেরগুলোর দামও দুই হাজার টাকার কম নয়।

ক্রেতাদেরও ভোগান্তি বাড়ছে। সদর বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা বলেন, “মেহমানের জন্য মাছ নিতে এসেছি। কিন্তু দাম এত বেশি যে বাধ্য হয়ে ছোট সাইজের কয়েকটা নিতে হলো।”

সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, “ইলিশের সঙ্গে নদীর পানির প্রবাহের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক পানি বৃদ্ধির কারণে পদ্মায় ইলিশ কম ধরা পড়ছে। তবে পানি নামতে শুরু করলে আবারও পর্যাপ্ত ইলিশ মিলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”

মতামত দিন