জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নতুন শর্তাবলি: জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫ এর খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করে বহুল আলোচিত জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫ এর চূড়ান্ত খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনার পর তৈরি হওয়া এই সনদে মোট ৮৪টি প্রস্তাব ও ৮ দফা অঙ্গীকারনামা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে জাতীয় সংসদ ও সরকার কাঠামো নিয়ে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব উঠে এসেছে।

খসড়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান থাকতে পারবেন না। একইসঙ্গে, কেউ টানা বা পৃথক মেয়াদে ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকতে পারবেন না। এছাড়া সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাবও যুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত এই খসড়ায় সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত সংস্কারকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মৌলিক ঐকমত্য গড়ে উঠেছে।

সনদের পটভূমিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়েও তা পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি। কমিশন মনে করছে, জুলাই জাতীয় সনদ ভবিষ্যতের সংস্কার ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দলিল হয়ে উঠতে পারে।

এতে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিকৃতি ঘটিয়েছে। পাশাপাশি, তারা নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের পথ সুগম করেছে।

মতামত দিন