নওগাঁয় আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বাঁধ ঝুঁকির মুখে।
নওগাঁর নদ-নদীতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর তীরবর্তী বেঁড়িবাধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। কিন্তু আত্রাই নদীর দুটি স্পটে পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকার কারণে আশপাশের নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলার কিছু এলাকার মাঠ ও ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, আত্রাই নদীর জোতবাজার পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শিমুলতলী ও মহাদেবপুর পয়েন্টে পানিসমতল যথাক্রমে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ও ৮৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছোট যমুনার পানি নওগাঁ শহরের লিটন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচে আছে।
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও এলাকা চিহ্নিত করে মান্দা ও রাণীনগর উপজেলা প্রশাসন জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বালু, বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি ও শুকনো খাবার মজুত করা হচ্ছে।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল জানিয়েছেন, “জেলা জুড়ে নদ-নদীর পানিসমতল বৃদ্ধি অব্যাহত। আত্রাই নদীর কয়েকটি পয়েন্ট ছাড়া সব জায়গায় পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হলেও আমরা সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছি।”
উপজেলা প্রশাসকরা বলছেন, “নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ পর্যবেক্ষণ ও আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। আশ্রয়কেন্দ্র ও খাদ্য মজুত রাখা হচ্ছে যাতে কোনো বিপর্যয় এলে তা দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।”

মতামত দিন