তিস্তার পানিবৃদ্ধিতে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে রেকর্ড হয়। চলতি মৌসুমে এটি চতুর্থবারের মতো বিপৎসীমা অতিক্রম করল নদীটি।
পানির চাপে ডিমলার পশ্চিম ও পূর্ব ছাতনাই, খগাখাড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি এবং গয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। খালিশা চাপানির ছোটখাতা গ্রামে নতুন একটি শাখা নদী সৃষ্টি হয়ে শত শত বিঘা আবাদি জমি গিলে ফেলেছে। এতে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধ কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে সরে গেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে চলা তিস্তার ভাঙনে অজস্র বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও বাজার নদীতে মিলিয়ে গেছে। এ বছর ভাঙনের গতি আরও বেড়েছে, প্রতিদিন নদীপাড়ের হাজারো মিটার জমি ধসে পড়ছে।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, “আমার ইউনিয়নের অন্তত ৬০০ পরিবারের ঘরে পানি ঢুকেছে। চরবাসীদের সবচেয়ে বড় বিপদ গবাদিপশুর খাবার নিয়ে।”
ডালিয়া পয়েন্টের পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে যাতে পানি দ্রুত প্রবাহিত হতে পারে। ইউএনও ইমরানুজ্জামান জানান, দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার, ত্রাণসামগ্রী ও তাঁবু মজুত আছে এবং ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, নিম্নাঞ্চলের সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে।
মতামত দিন