তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম, লালমনিরহাটে বন্যার আশঙ্কা।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, কারণ উজানের পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম ভারি বর্ষণে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, বহু পরিবার তাদের গবাদিপশু ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে স্থানীয় অঞ্চলে সরিয়ে নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি লেভেল ৫২.১৬ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমা ৫২.১৫ মিটারের থেকে সামান্য বেশি। এর আগের কয়েকদিনেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করছিলো—২৯ জুলাই এবং ৩ আগস্ট বন্যার সংকেত ছিলো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় মানুষজন বাড়ি থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ভাড়া বাসায় চলে গেছেন। গবাদিপশুদের জন্য খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে, যা উদ্বেগজনক। গবাদিপশু এখনও অনেক চরাঞ্চলে পড়ে আছে, যা পরিস্থিতিকে আরো সংকটাপন্ন করে তুলছে।
পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যার মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শুকনো খাবার, ত্রাণসামগ্রী ও তাবু মজুত রাখা হয়েছে এবং ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য বলেছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে গেছে। তাই আমরা জলকপাট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। নিম্নাঞ্চলের মানুষদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।”
মতামত দিন